বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যাপক অনিয়মের ফলে প্রচুর ক্রিমিন্যাল ক্যাপিটাল তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসার ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার ব্যবসায় অন্যায্য প্রতিযোগিতা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।’
দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) আয়োজনে গতকাল ‘সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘সরকারে কাজ করতে এসে দেখেছি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জন্য সোনালি ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন করা যায়, তাহলে আমরা যে অবস্থানে আছি তা থেকে উত্তরণ সম্ভব। আর যদি সেটা না হয় তাহলে ক্লেপ্টোক্রেসি (লুটেরা শাসন) তৈরি হবে। আমরা এখান থেকে বেরিয়ে আসতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সময়ে আমরা দেখেছি কীভাবে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ম্যানুপুলেট করে হাজার হাজার কোটি ডলার পাচার করা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবসাকে সামনে রেখে অর্থ পাচার করা হয়েছে।
সাফা দক্ষিণ এশিয়ার হিসাবরক্ষণ পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। সার্কভুক্ত দেশগুলোর ছয় শতাধিক পেশাদার হিসাববিদ, অর্থনীতিবিদ, পলিসিমেকার, করপোরেট নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সাফার প্রেসিডেন্ট আসফাক ইউসুফ তোলা, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া, দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট এনকেএ মুবিন এবং আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড. দেবপ্রিয়
ভট্টাচার্য। এ সময় তিনটি টেকনিক্যাল সেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নেন সার্কভুক্ত দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং, শিল্প, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। এতে জিডিপি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় হিসাব পেশাজীবীদের পরিবর্তিত ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।